বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
১৯ এপ্রিল মহেশখালীর মানুষের দিন ছিল একটি আতংকের দিন। আজ ২ মে ১৪ দিন পর মহেশখালীর আম জনতা মাঝে স্বস্তির দিন। অন্তত কিছুটা হলেও। মানুষের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস জন্মেছে যে করোনা রোগি মানেই মৃত্যু নয়। আর এবিশ্বাসের ভূমিকায় অবদান রেখেছে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোঃমাহফুজুল হক ও তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান সম্মুখ যুদ্ধের করোনা যোদ্ধা টিম।
জানাযায়, মহেশখালীতে প্রথম করোনা রোগি শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ডা. মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মিগণ। উৎসাহ যুগিয়েছেন, যে যুদ্ধে কেউ কারো নয় সে যুদ্ধে মাঠে নামলেন মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিমকে। উর্ধতন কর্মকর্তাদের আদেশে জরুরী সভা করে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের নির্দেশ দিলেন যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করার।
পরিকল্পনা মতে চিকিৎসা সেবা:
পরিকল্পনা মাফিক মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারীরা বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের তালিকা তৈরী ও হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করলেন৷ এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা আহবান করলেন সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক এমপির সভাপতিত্বে৷
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আবার শুরু হল মহেশখালীর বাহির থেকে যারা আসছেন তাদের তালিকা তৈরী ও হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করার৷ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রেরণা দিয়ে অফিস সময় ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হলেও রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করে সহকর্মী ও কর্মচারীদের প্রবল সাহস দিতেন।
স্বাস্থ্য সহকারী মুহাম্মদ মনির বিল সোলতান বলেন, তারই মাঝে গঠন হল মেডিকেল টিম, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্দেহ জনক ও বাহির থেকে আগতদের নমূনা সংগ্রহ করা। এই ঠিমের প্রধান মেডিকল অফিসার রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ডা.এস.এম আশরাফুজ্জামান, সদস্য ল্যাব টেকনোলজিষ্ট শেখ আব্দুল হালিম, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট নুরুল আলম হেলালী ও স্ব স্ব ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারীরা দায়িত্বরত ওয়ার্ডে সদস্য হিসেবে ছিলেন।
শুরু হল ভয়কে জয় করে সন্দেহজনক করোনা আক্রান্তদের নমূনা সংগ্রহ অভিযান৷ মেডিকেল টিমের সদস্যরা একদিন একেক ইউনিয়নে ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করা শুরু করলেন৷ নমূনা সংগ্রহের কারণে মেডিকেল ঠিমের সদস্যরা থাকতে লাগলেন হাসপাতালে। পরিবার স্বজন ছেড়ে, সঠিক সময়ে আহার করতে না পারলেও দায়িত্ব ছেড়ে যায়নি শুধুমাত্র ডা. মাহফুজুল হকের অনুপ্রেরণায়। কারণ একটা ভয়তো ছিলই যেখানে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়েই নিজেই আক্রান্ত হওয়ার।
হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, এই পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের কাছাকাছি নমূনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব থেকে পরীক্ষা নিশ্চিত করেছেন এই মেডিকেল টিম৷
আরেক স্বাস্থ্য কর্মি হেলালী বলেন, অপর দিকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.শান্তনু ঘোষ, মেডিকেল অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, নার্স সহ কর্মচারীদের নিয়ে যোগ্য সহযোগীর মত সামাল দিচ্ছেন ইমার্জেন্সি, শিশু ওয়ার্ড, প্রসুতী ওয়ার্ড, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড৷
বিশিষ্টজনের ধন্যবাদ জ্ঞাপান :
মানবাধিকার কর্মি আজিজুল হক সিকদার বলেন, সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ। কিন্তু উছিলা হিসেবে ডা. মাহফুজ ও মহেশখালী হাসপাতালের চিকিৎসা টিমের আন্তরিক চিকিৎসার ফসল করোনা রোগির সুস্থতা।সুস্থতাও শুভকামনা তাঁদের জন্য।
মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুব রোকন বলেন, সারা দেশের ন্যায় মহেশখালীতেও করোনা নিয়ে আতংকে ছিল মানুষ। এই তিনজন করোনা রোগির সুস্থতার ফলে মহেশখালীর মানুষসহ দেশের মানুষ আশাবাদী হবে। যার অবদান মহেশখালী হাসপাতালের ডাক্তারদের। তাই এই করোনা যুদ্ধে ডাক্তারদের আরো পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবী জানাচ্ছি। এবং মহেশখালী হাসপাতালের ডাক্তারদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মহেশখালী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল সোহাগ বলেন, “ আমরা মনে করছি, মহেশখালী ছেলে হিসেবে ডা. মাহফুজুল হক আল্লাহর রহমতে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই কঠিন সময়ে আন্তরিক সেবা দিয়ে মরণঘাতি করোনা রোগিদের সুস্থ করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য তিনি সহ সংশ্লিষ্ট সকল।
ডা. মাহফুজুল হক বলেন, রোগ ব্যাধি ভাল মন্দের মালিক সৃষ্টিকর্তা । ডাক্তারগণ উছিলা হিসেবে কাজ করেন। উর্ধতন বিশেষজ্ঞ ডাক্তরগণের নির্দেশে এবং পরামর্শে আমি সহ হাসপাতালের সবাই চেষ্টা করেছি যাতে করোনা রোগিরা সুস্থ হন।
আন্তরিক চেষ্টা করেছি, সবসময় তাদের মনোবল দিয়েছি, যাতে তারা মানসিক শক্তি না হারান যাতে। সবকিছু মিলিয়ে রোগিরা সুস্থ হয়েছে এটাই ভালোলাগা এবং কৃতজ্ঞতা সকল সহযোগিদের।
একটা কথা, করোনা রোগি সুস্থ হয়েছেন তার জন্য আমরা সাহস পাব ঠিক। কিন্তু আমাদের আরো বিপদ সামনে আছে তাই মহেশখালীবাসীকে আরো সতর্ক, সচেতন হতে হবে।
উল্লেখ্য, আজ ২ মে মহেশখালীতে প্রথম তিনজন করোনা শনাক্ত হওয়া তিন রোগিদের ছাড়পত্র দিয়েছেন। পরপর তিন বার রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ হওয়ায়। যারা এতোদিন লিডারশীপ কলেজে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।
ডা. মাহফুজুল হক, মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালে প্রথম ব্যক্তি যিনি মহেশখালীর (বড়মহেশখালী) ছেলে হিসেবে উপজেলা হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ভয়েস/জেইউ।